নামের মানে জানতে চাইলে, আমি অনেককেই বিব্রত হতে দেখেছি। তবু নামের মানে জানার কৌতুহলের আমার শেষ নেই। কোনো নাম জানি অথচ তার মানে জানি না ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন যেন অসম্পূর্ণ লাগে। যেন তাকিয়ে আছি কিন্তু দেখতে পাচ্ছিনা। সে মানুষই হোক বা কোনো স্থান। নামের মানে বা উৎস জানা'টা আমার কাছে খুব জরুরি মনে হয়।
যখন প্রথম ঢাকা শহরের নাম শুনেছিলাম, বেশ আশ্চর্য লেগে ছিল। এ আবার কেমন নাম ! ঢাকা মানে তো আচ্ছাদিত - কোনো কিছু কে ঢেকে রাখলেই না আমরা বলি ঢাকা। মজা লেগে ছিল। তারায় ঢাকা আকাশ আর তারই নিচে এক মস্ত শহর - যার নাম ঢাকা।
ঢাকা শহরের নাম করণ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ কেউ বলেন সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়ি গঙ্গা নদীর তীরে ঘুরতে ঘুরতে, পাশের জঙ্গলে একটি দেবী দুর্গার মূর্তি খুঁজে পান এবং সেটিকে উনি মন্দির তৈরী করে প্রতিষ্ঠাও করেন। যেহেতু বিগ্রহটিকে গুপ্ত বা ঢাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, তাই ওই মন্দিরের নাম করণ করা হয় ঢাকেশ্বরী মন্দির। এটি বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির, আর এই মন্দির থেকেই নাকি জায়গাটির নাম হয় ঢাকা। আমরা যাকে পলাশ ফুল হিসাবে চিনি তার আরেক নাম ঢাক ফুল। এই অঞ্চলে এক সময় প্রচুর ঢাক ফুলের গাছ ছিল আর সেই থেকেই, শোনা যায় শহরের নাম হয়েছিল ঢাকা। না এখানেই নামের ইতিহাস শেষ নয়। কারো কারো মতে ঢাকা নামের উৎস হলো আমাদের প্রিয় বাদ্যযন্ত্র ঢাক। এই ঢাক বাজিয়েই যেহেতু বাংলার রাজধানী হিসাবে এই শহরের আত্মপ্রকাশ, তাই নাকি এই শহরের নামকরণ হয় ঢাকা।
অনেক তো হলো ইতিহাসের কথা, নামের উৎসের কথা এবার শহরের বর্তমান অবস্থার কথা বলা যাক।
অনেক তো হলো ইতিহাসের কথা, নামের উৎসের কথা এবার শহরের বর্তমান অবস্থার কথা বলা যাক।
মস্ত বড় এক শহরের নাম হলো ঢাকা - প্রচুর চাপ সামলাতে গিয়ে কিছুটা ক্লান্ত, কিন্তু দমবার পাত্র সে মোটেই নয়। এগিয়ে চলাই তার পরম মন্ত্র আর উত্তরোত্তর নিজেকে উন্নত করার বিষয়ে ঢাকা শহর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রত্যয়ী। তার প্রেমে না পরে থাকা যায় না। অন্য অনেক শহরের মতোই চরম বৈপরীত্যে ভরা সে। শহরে যেমন বাস করেন ধনীর ধনী মানুষ আবার তার সাথেই আছেন হতো দরিদ্র মানুষ। মধ্যবিত্ত মানুষ'তো আছেনই। প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের সামনে, গুলশান বা বারিধারার মতো জায়গায় যেমন চওড়া রাস্তা আছে, পুরোনো বা পুরান ঢাকায় তেমনই আছে অত্যন্ত সরু, সরু রাস্তা - গলি বলাই ভালো। ১০/২০ তলা ফ্লাট বা পেল্লাই বাংলো যেমন শহরের ঐশর্য্যের আভাস দেয়, সারি সারি ছেঁড়া ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ছোট্ট ছোট্ট মাথা গোঁজার আস্তানা বুঝিয়ে দেয় প্রদীপের তলার অন্ধকার টা ঠিক কোন খানে।
বাংলাদেশে থাকলে আমার মাথায় একটা মজার তুলনা সব সময় চলতেই থাকে। কারণ'টা জানাই আছে। ভাষা - আমাদের অতি প্রিয় মাতৃভাষা। চারি পাশে সবাই বাংলায় কথা বলছেন, অথচ দেশটাই আলাদা। তাই যখন গুলশান, বারিধারা যাই, তখন আমাদের আলিপুর বা নিউ আলিপুরের কথা মনে পরে যায়, উত্তরা বা বসুন্ধরা আবাসিকে গেলে সল্ট লেক এর কথা আর শহরের মধ্যে থাকলে সেন্ট্রাল কলকাতার কথা মনে পড়তে থাকে। যদি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট টা আরেকটু যত্ন করে করা যেত, 'ঢাকায় থাকি' বলতে আরো অনেক বেশি আনন্দ বোধ করতো ঢাকাবাসীরা। শহরের পরিসর অনুপাতে জনসংখ্যা এখানে অনেক, অনেক বেশি আর অত্যন্ত আশংকার বিষয় যে সেই অনুপাতে রাস্তা অত্যন্ত কম। গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হলো এখানকার মানুষের লম্বা গাড়ি প্রীতি। আমাদের দেশে যেমন ছোট মাপের ফ্যামিলি কার জনপ্রিয় হওয়ায় রাস্তায় অনেক কম জায়গা নিয়ে চলে এরা আর এতে পার্কিঙের জায়গাও লাগে কম। কোনো অজ্ঞাত কারণে বাংলাদেশে ছোট গাড়ির ব্যবহারে মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। রাস্তায় হাতে গোনা কিছু এদেশের মারুতি এসটিলো দেখতে পাওয়া যাবে - সে দেশের রাস্তা দাপিয়ে বেড়ায় টয়োটার বিভিন্ন মডেলের পেল্লাই সব বাহন । নতুন গাড়ির পাশাপাশি রিকন্ডিশনড গাড়ির মস্ত বড় বাজার হলো বাংলাদেশ। আজ এতো টুকুই থাক - পরের কিস্তিতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আর ট্রাফিক নিয়ে আরো গল্প হবে। (ক্রমশ)
প্রতীক তরফদার । ১৮.১২.২০১৬
*** আমি লিখছি সম্পূর্ণ নিজের খেয়ালে, নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনাকে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় পরিজনের সাথে ভাগ করে নিতে। অনেকে পড়ে আনন্দ পাচ্ছেন, পরের কিস্তির জন্য অপেক্ষা করছেন, এই লেখা তাদেরই জন্যে। সব মতামত আমার একান্ত ব্যক্তিগত, কারো ভাবাবেগে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে, দয়া করে আমায় সংশোধন করে দেবেন। লিখে আনন্দ পাচ্ছি, তাই লিখছি - কোনো বিশেষ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসাবে নিজেকে প্রমানের কোনো তাগিদ নেই।

No comments:
Post a Comment