যারা প্রথম বাংলাদেশে যাবেন, তাদের জন্য কিছু তথ্য এই সুযোগে জানিয়ে রাখি -
১. আপনার চেক ইন ব্যাগেজ এ Fragile ট্যাগ লাগাতে ভুলবেন না। ঢাকা বিমানবন্দরের ব্যাগেজ হ্যান্ডলার'রা অধিকাংশ সময়ই তাড়ায় থাকেন। ওনাদের কল্যানে আমার ব্যবহৃত সব Suitcase বা ব্যাগ গুলোরই করুন দশা - দেখলেই মনে হয় বহু লাঞ্ছিতা, নির্যাতিতা। Fragile ট্যাগ লাগানো সত্ত্বেও।
২. USD এক্সচেঞ্জ করে বাংলাদেশী টাকা পেতে হলে, বিমানবন্দর থেকে যতটা না করলেই নয়, ততটাই করুন । বাইরে তুলনামূলক ভাবে বেশি দর পাবেন।
৩. বিমানবন্দরের ভেতর থেকেই মোবাইল সিম কিনতে পারেন। ভয়েস কল ও ডেটার জন্য গ্রামীণফোন সার্ভিস প্রোভাইডার হিসাবে অত্যন্ত নির্ভর যোগ্য। 3G ইন্টারনেট স্পিড খুবই ভালো। না, এই লাইন’টা লেখার জন্যে আমার গ্রামীনফোনের সাথে কোনো গোপন চুক্তি হয় নি।
৪. সুরায় আসক্তি থাকলে, ইমিগ্রেশন কাউন্টার-এ পৌঁছনোর আগেই ডিউটি ফ্রি শপ এ গিয়ে আপনার কোটার বিশেষ পানীয় সংগ্রহ করে নিতে পারেন। না হলে, শহরে চেনা বন্ধু না থাকলে, চড়া দামে আপনার তেষ্টা মেটাতে হবে, কোনো পাঁচ তারা হোটেল'এর Bar'এ বসে। ধর্মীয় বিধি নিষেধের কারণে সুরা (ওয়াইন) বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।
৫. আপনার বাঙাল ভাষার দক্ষতা পরখের প্রাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য ল্যাবরেটরি হিসাবে দয়া করে বাংলাদেশ কে বেছে নেবেন না। আপনার অজান্তেই আপনি কিন্তু হাসির খোরাকে পরিণত হবেন। CNG বা ট্যাক্সি ড্রাইভার'এর সাথে দরদাম করার সময় নিজের বিদেশী পরিচয় গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে নিজেকে স্থানীয় ভাবাতে গেলে ঠকে যাবেন। এরকম বহু বিচিত্র চেষ্টা আমি এপারের বাঙালিদের ওপারে গিয়ে করতে দেখেছি আর মনে, মনে খুব হেসেছি। 'হামি তুমাকে ভালোবাসসি', 'হামি মিষ্টি দই খাবে' বললেই যেমন কলকাতার বাঙালি হওয়া যায় না, ঠিক তেমনি বেসুরে ধ্রুপদী সংগীত গাওয়ার মতো সুর করে বাংলা বললেই সেটা ঢাকার স্থানীয় বাচনভঙ্গি বা অ্যাকসেন্ট হয়ে যায় না। গাড়ির চালক আপনার বিচিত্র চেষ্টা দেখে, দ্বিগুনের জায়গায় তিন গুন্ ভাড়া চেয়ে বসতে পারে । এই সুযোগে বলে রাখি, বাংলাদেশে তিন চাকার মোটর চালিত যান কে কেউ অটোরিকশা বলেন না। CNG চালিত রিক্সা ওখানে পরিচিত CNG নামেই।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই চোখে পরবেই পরবে এক অনিন্দ্য সুন্দর, মানুষের তৈরী kaleidoscope। দামি সুগন্ধি মেখে, হাল ফ্যাশনের জামা কাপড় পরে, লম্বা লম্বা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষারত কিছু বিত্তবান মানুষের সাথে অসংখ্য সাধারণ মানুষের ভিড়। গত সপ্তাহের হাটে বা মেলা থেকে কেনা নতুন হাফ প্যান্ট আর শার্ট পরে, ফুল ছাপ সালোয়ার কামিজ পরে, মাথায় রঙ্গীন ওড়না দিয়ে কত ছোট ছোট বাচ্চারা অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় আব্বাজানের জন্যে বা আম্মার জন্যে। তাদের সঙ্গে তাদের আব্বু বা আম্মু অমোঘ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ওদের কাছের মানুষ গুলোকে সামনে থেকে দেখবেন বলে - কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর। এই আসার অপেক্ষার উত্তেজনাই আলাদা। আসা যাওয়ার মাঝে, ডিপার্চার এর থেকে এরাইভাল আমার অনেক বেশি প্রিয়। (ক্রমশ)
প্রতীক তরফদার । ২৯.০৯.২০১৬
*** আমি লিখছি সম্পূর্ণ নিজের খেয়ালে, নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনাকে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় পরিজনের সাথে ভাগ করে নিতে। অনেকে পড়ে আনন্দ পাচ্ছেন, পরের কিস্তির জন্য অপেক্ষা করছেন, এই লেখা তাদেরই জন্যে। সব মতামত আমার একান্ত ব্যক্তিগত, কারো ভাবাবেগে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে, দয়া করে আমায় সংশোধন করে দেবেন। লিখে আনন্দ পাচ্ছি, তাই লিখছি - কোনো বিশেষ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসাবে প্রমানের কোনো তাগিদ নেই।
২. USD এক্সচেঞ্জ করে বাংলাদেশী টাকা পেতে হলে, বিমানবন্দর থেকে যতটা না করলেই নয়, ততটাই করুন । বাইরে তুলনামূলক ভাবে বেশি দর পাবেন।
৩. বিমানবন্দরের ভেতর থেকেই মোবাইল সিম কিনতে পারেন। ভয়েস কল ও ডেটার জন্য গ্রামীণফোন সার্ভিস প্রোভাইডার হিসাবে অত্যন্ত নির্ভর যোগ্য। 3G ইন্টারনেট স্পিড খুবই ভালো। না, এই লাইন’টা লেখার জন্যে আমার গ্রামীনফোনের সাথে কোনো গোপন চুক্তি হয় নি।
৪. সুরায় আসক্তি থাকলে, ইমিগ্রেশন কাউন্টার-এ পৌঁছনোর আগেই ডিউটি ফ্রি শপ এ গিয়ে আপনার কোটার বিশেষ পানীয় সংগ্রহ করে নিতে পারেন। না হলে, শহরে চেনা বন্ধু না থাকলে, চড়া দামে আপনার তেষ্টা মেটাতে হবে, কোনো পাঁচ তারা হোটেল'এর Bar'এ বসে। ধর্মীয় বিধি নিষেধের কারণে সুরা (ওয়াইন) বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।
৫. আপনার বাঙাল ভাষার দক্ষতা পরখের প্রাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য ল্যাবরেটরি হিসাবে দয়া করে বাংলাদেশ কে বেছে নেবেন না। আপনার অজান্তেই আপনি কিন্তু হাসির খোরাকে পরিণত হবেন। CNG বা ট্যাক্সি ড্রাইভার'এর সাথে দরদাম করার সময় নিজের বিদেশী পরিচয় গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে নিজেকে স্থানীয় ভাবাতে গেলে ঠকে যাবেন। এরকম বহু বিচিত্র চেষ্টা আমি এপারের বাঙালিদের ওপারে গিয়ে করতে দেখেছি আর মনে, মনে খুব হেসেছি। 'হামি তুমাকে ভালোবাসসি', 'হামি মিষ্টি দই খাবে' বললেই যেমন কলকাতার বাঙালি হওয়া যায় না, ঠিক তেমনি বেসুরে ধ্রুপদী সংগীত গাওয়ার মতো সুর করে বাংলা বললেই সেটা ঢাকার স্থানীয় বাচনভঙ্গি বা অ্যাকসেন্ট হয়ে যায় না। গাড়ির চালক আপনার বিচিত্র চেষ্টা দেখে, দ্বিগুনের জায়গায় তিন গুন্ ভাড়া চেয়ে বসতে পারে । এই সুযোগে বলে রাখি, বাংলাদেশে তিন চাকার মোটর চালিত যান কে কেউ অটোরিকশা বলেন না। CNG চালিত রিক্সা ওখানে পরিচিত CNG নামেই।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই চোখে পরবেই পরবে এক অনিন্দ্য সুন্দর, মানুষের তৈরী kaleidoscope। দামি সুগন্ধি মেখে, হাল ফ্যাশনের জামা কাপড় পরে, লম্বা লম্বা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষারত কিছু বিত্তবান মানুষের সাথে অসংখ্য সাধারণ মানুষের ভিড়। গত সপ্তাহের হাটে বা মেলা থেকে কেনা নতুন হাফ প্যান্ট আর শার্ট পরে, ফুল ছাপ সালোয়ার কামিজ পরে, মাথায় রঙ্গীন ওড়না দিয়ে কত ছোট ছোট বাচ্চারা অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় আব্বাজানের জন্যে বা আম্মার জন্যে। তাদের সঙ্গে তাদের আব্বু বা আম্মু অমোঘ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ওদের কাছের মানুষ গুলোকে সামনে থেকে দেখবেন বলে - কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর। এই আসার অপেক্ষার উত্তেজনাই আলাদা। আসা যাওয়ার মাঝে, ডিপার্চার এর থেকে এরাইভাল আমার অনেক বেশি প্রিয়। (ক্রমশ)
প্রতীক তরফদার । ২৯.০৯.২০১৬
*** আমি লিখছি সম্পূর্ণ নিজের খেয়ালে, নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনাকে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় পরিজনের সাথে ভাগ করে নিতে। অনেকে পড়ে আনন্দ পাচ্ছেন, পরের কিস্তির জন্য অপেক্ষা করছেন, এই লেখা তাদেরই জন্যে। সব মতামত আমার একান্ত ব্যক্তিগত, কারো ভাবাবেগে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে, দয়া করে আমায় সংশোধন করে দেবেন। লিখে আনন্দ পাচ্ছি, তাই লিখছি - কোনো বিশেষ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসাবে প্রমানের কোনো তাগিদ নেই।

No comments:
Post a Comment